পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা: টুথপেস্ট নয়, ঠান্ডা পানি

আমাদের দেশে ঘরোয়া দুর্ঘটনার বড় একটি অংশ ঘটে রান্নাঘরে। গরম তেল ছিটকে পড়া, ফুটন্ত পানি উল্টে যাওয়া বা গরম পাত্রে হাত লাগা খুবই সাধারণ। দুঃখজনকভাবে, পোড়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণা এখনো প্রচলিত আছে, যা ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

সঠিক পদক্ষেপ

১. তাপের উৎস থেকে সরিয়ে নিন
আহত ব্যক্তিকে দ্রুত আগুন বা গরম বস্তু থেকে দূরে সরান। কাপড়ে আগুন লাগলে দৌড়াবেন না। থামুন, মাটিতে শুয়ে পড়ুন এবং গড়াগড়ি দিন।

২. ঠান্ডা চলমান পানি দিন — ২০ মিনিট
পোড়া জায়গাটি সাধারণ ঠান্ডা (বরফ-ঠান্ডা নয়) চলমান পানির নিচে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে রাখুন। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে ত্বকের ভেতরের তাপ বের হয় এবং ক্ষতির গভীরতা কমে।

৩. আংটি, চুড়ি, ঘড়ি খুলে ফেলুন
পোড়া জায়গা দ্রুত ফুলে যায়, তাই ফোলার আগেই গয়না খুলে নিন। তবে ত্বকে লেগে থাকা কাপড় টেনে তুলবেন না।

৪. আলগাভাবে ঢেকে দিন
ঠান্ডা করার পর পরিষ্কার প্লাস্টিক র‍্যাপ (ক্লিং ফিল্ম) অথবা জীবাণুমুক্ত, লোমহীন গজ দিয়ে আলগাভাবে ঢেকে দিন। তুলা সরাসরি লাগাবেন না, কারণ আঁশ ক্ষতে আটকে যায়।

যা কখনোই করবেন না ❌

  • টুথপেস্ট, ডিম, মাখন, ঘি বা তেল লাগাবেন না। এগুলো তাপ আটকে রাখে এবং সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
  • সরাসরি বরফ দেবেন না। এতে ত্বকের আরও ক্ষতি হতে পারে।
  • ফোস্কা গলাবেন না। ফোস্কা ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা।

কখন হাসপাতালে যাবেন?

  • পোড়া জায়গা আক্রান্ত ব্যক্তির হাতের তালুর চেয়ে বড় হলে
  • মুখ, হাত, পা, যৌনাঙ্গ বা কোনো জোড়ায় পুড়লে
  • বৈদ্যুতিক বা রাসায়নিক পোড়া হলে
  • ত্বক সাদা, বাদামি বা কালচে দেখালে, অথবা ব্যথা একেবারেই না থাকলে (এটি গভীর পোড়ার লক্ষণ)
  • শিশু, বয়স্ক বা অন্তঃসত্ত্বা নারী পুড়লে
  • ধোঁয়া শ্বাসে গেলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে

ঘরে বার্ন জেল ও জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং রাখুন। FamilyCare Kits-এ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বাংলা নির্দেশিকা পাবেন। কিট দেখুন →

⚠️ এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য। গুরুতর পোড়ায় দেরি না করে হাসপাতালে যান বা ৯৯৯-এ কল করুন।